Loading
X
10616   info@squarehospital.com

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত  এবং বছরে প্রায় ৩৪ লক্ষ মানুষ ডায়াবেটিস সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মারা যায়।

এক কথায় ডায়াবেটিস বলতে আমরা বুঝি, রক্তে চিনি বা গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী মাত্রায় থাকা। আর ডায়াবেটিস রোগটি বিস্তারিতভাবে বুঝতে হলে- শর্করা জাতীয় খাবারের বিপাক সম্পর্কে জানতে হবে। খাদ্য গ্রহণের পর পরিপাকতন্ত্রে পৌঁছে শর্করা জাতীয় খাবার ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং এই গ্লুকোজ রক্তনালীর মাধ্যমে আমাদের শরীরের সব কোষে প্রবেশ করে। তবে এই প্রক্রিয়াটি সরাসরি ঘটেনা, কোষের ভিতর প্রবেশ করতে হলে গ্লুকোজকে ইনসুলিন নামে এক ধরণের হরমোন বা রাসায়নিক পদার্থের সাহায্য নিতে হয়। কোন কারণে কোষগুলো যদি ইনসুলিন না পায় অথবা এই ইনসুলিনের সহায়তা নিতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে রক্তে অবস্থিত গ্লুকোজ কোষের ভিতর প্রবেশ করতে পারে না। এর ফলে রক্তে অতিরিক্ত পরিমাণে গ্লুকোজ জমা হতে থাকে, এই অবস্থাকেই ডায়াবেটিস বলে।

পেটের ভিতরের অগ্নাশয়ে তৈরী হয় এই ইনসুলিন। অগ্নাশয় যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম ইনসুলিন তৈরী করে অথবা যদি একেবারেই তৈরী না করে তাহলে এই ধরণের ডায়াবেটিসকে টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস বলে। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস সাধারণত: অল্প বয়সে শুরু হয় এবং তুলনামূলকভাবে কম মানুষই এ রোগে আক্রান্ত হয়। 

অন্যদিকে, টাইপ টু ডায়াবেটিসে অগ্নাশয় ঠিকমতই ইনসুলিন তৈরী করে, কিন্তু আমাদের কোষগুলো এই ইনসুলিনের সহায়তা নিতে ব্যর্থ হয়। অধিকাংশ মানুষের ডায়াবেটিস-ই টাইপ টু ডায়াবেটিস, যা সাধারণত: মধ্য বয়সে শুরু হয়। তবে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের মাধ্যমে টাইপ টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়।

ডায়াবেটিস মৃত্যুঘাতি রোগ। যদিও শুরুতে আপাত দৃষ্টিতে মারাত্মক নয় এমন উপসর্গ, যেমন- ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত পিপাসা বা ওজন কমে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তবে তা দিনে দিনে শরীরের নানা অঙ্গে জটিল অবস্থা তৈরী করে- হার্ট অ্যাটাক, মস্তিষ্কের স্ট্রোক, কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়া, ¯œায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া, দৃষ্টিশক্তির দূর্বলতাসহ আরো নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।

অত্যাধুনিক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় করা হয়।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ অনুযায়ী রোগীকে বিভিন্ন উপায়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।

মৃত্যুঘাতি ডায়াবেটিসের প্রতিরোধের দিকেই আমাদের বেশী সচেতন থাকা উচিত।

ডায়াবেটিস মৃত্যুঘাতি হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ। পরিমিত খাদ্যগ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধুমপান ত্যাগ এবং প্রয়োজনীয় কিছু ঔষধ গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী ডায়াবেটিসের জটিলতা থেকে নিজেকে অনেকাংশেই রক্ষা করে স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবনযাপন করতে পারেন।