Loading
X
10616   info@squarehospital.com

ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ ও ইনসুলিন-ভীতি

ডায়াবেটিস রোগটি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বা অঞ্চলের তুলনায় আমরা পৃথিবীর যে অঞ্চলটিতে বাস করি অর্থাৎ দক্ষিন-পূর্ব এশিয়াতে  অনেক বেশী । শুধু তাই নয়, এই রোগটি  প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির হারও অত্যন্ত ভয়াবহ। আমাদের দেশের কথাই যদি ধরি, শহরে তো এর প্রাদুর্ভাব আছেই, গ্রামাঞ্চলেও এটি ব্যাপক হারে বিদ্যমান এবং এর  বৃদ্ধির হারও আশঙ্কাজনক। যদিও আমাদের সেরকম কোন পরিসংখ্যান নেই, এটা মনে করা হয় যে – গ্রামাঞ্চলে অসচেতনতা, শিক্ষার অভাব, স্বাস্থ্য-সেবার তুলনামুলক অপ্রতুলতার কারনে ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় দেরিতে হয় এবং এর জটিলতাও অনেক আগেই শুরু হয়। ফলে এটি জনস্বাস্থ্য তথা  আমাদের স্বাস্থ্য- বাবস্থার উপর বেশ বড় একটি চাপ।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হোল,  ডায়াবেটিস এর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশী হওয়ায়, দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশে হৃদরোগের প্রাদুর্ভাবও আশঙ্কাজনক ভাবে বেশী। ডায়াবেটিস  আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর প্রধান কারন হৃদরোগ-জনিত। শুধু তাই না, অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে হৃদরোগে মৃত্যুর হার এখন সবচেয়ে বেশী। আরও চিন্তার বিষয় হোল,  হার্ট এটাক রোগটি এখন অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদেরও হর হামেশাই হচ্ছে। ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগের এই নিবিড় সম্পর্কের কারন হোল,  ডায়াবেটিস করোনারী হার্ট ডিজিজ এর অন্যতম প্রধান একটি কারন বা রিস্ক ফ্যাক্টর। 

কাজেই, ডায়াবেটিসে মৃত্যুর প্রধান কারন এই হার্ট -ডিজিজ প্রতিরোধের একটি কার্যকর উপায় হোল, ডায়াবেটিস ভালভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। 

ডায়াবেটিস কেন হয়? মানুষের অগ্নাশয় নামক অঙ্গের “বিটা সেল” থেকে ইনসুলিন নামক একটি হরমোন বের হয়- যা, আমরা যে সকল খাবার খেয়ে থাকি সেগুলোর বিপাক বা Metabolism এর জন্য অত্যাবশ্যক।  এই হরমোনটির অপর্যাপ্ততা থেকেই  ডায়াবেটিস এর উৎপত্তি।   


ডায়াবেটিস যতই পুরনো হোক, উপযুক্ত চিকিৎসা পেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে প্রায় সবাই মোটামুটি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন। এর জটিলতা গুলোও অনেক দেরিতে দেখা দেয়।  

উপযুক্ত চিকিৎসাটি কি? 

খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে – ১) খাবার নিয়ন্ত্রণ, 

                                            ২) নিয়মিত হাঁটা (বা পরামর্শ -মত অন্য  কোন ব্যায়াম),  

                                            ৩) নিয়মিত সঠিক ঔষধ সেবন  এবং 

                                            ৪) নিয়মিত চিকিৎসকের ফলো-আপ এ থাকা। 

ডায়াবেটিস রোগটি চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলঃ প্রতিদিন দিন-রাতের সব সময়ই রক্তের গ্লুকোজ স্বাভাবিক মাত্রায় রাখা এবং এর মাধ্যমে এ রোগটি শরীরের যে অঙ্গগুলোর ক্ষতিসাধন করে, যেমন – হার্ট, মস্তিষ্ক,  কিডনি, চোখ ইত্যাদি – সেটাকে প্রতিরোধ করে জীবনের মান উন্নত করা।  

ডায়াবেটিস এর ঔষধ মুলতঃ দুই ধরনের – খাবার ট্যাবলেট এবং ইনসুলিন ইনজেকশন।  বিভিন্ন কারনে শুধুমাত্র খাবার ঔষধ দিয়ে ডায়াবেটিস বা রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। এর সাথে ইনসুলিন ইনজেকশনও নিতে হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য, অর্থাৎ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে দিনে এক, দুই, তিন, বা ক্ষেত্র বিশেষে চার বারও ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়া লাগতে পারে।

অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় ইনসুলিন ইঞ্জেকশান নেবার ব্যাপারে অনেকের মনেই এক ধরনের ভীতি কাজ করে। আজকাল আর সাধারণ সিরিঞ্জ দিয়ে ইনসুলিন দেয়া হয় না। এর জন্য বিশেষ ধরনের সিরিঞ্জ পাওয়া যায় – যার সুচটি অত্যন্ত চিকন করা হয়েছে ইনসুলিন ইঞ্জেকশান দেবার সময় রোগী যাতে কষ্ট না পায়। এমন কি আজকাল বেশ সাশ্রয়ী মূল্যে ইনসুলিন দেবার পেন বা কলম পাওয়া যায়, যাতে শুধুমাত্র ইনসুলিন এর কার্টিজ ঢুকিয়ে খুব সহজেই প্রয়োজনীয় ডোজ  শরীরে প্রয়োগ করা যায়। এটি প্রায় ব্যাথা-মুক্ত, যে কোন জায়গায় বহন করা যায়, এবং একটু চেষ্টা করলেই কারও সাহায্য ছাড়া রোগী নিজেই ব্যাবহার করতে পারবেন।

ইনসুলিনের প্রতি অনীহার আরেকটি কারণ হোল, অনেকেরই ধারনা একবার ইনসুলিন নেয়া শুরু করলে সারা জীবন ইনসুলিন নিয়ে যেতে হবে। আসলে বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখতে হবে। মূল লক্ষ্য হল- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ। সেটার জন্য প্রয়োজন হলে খাবার ঔষধ বা ইনসুলিন যেটা প্রয়োজন হবে সেটাই নিতে হবে। তা না হলে ক্ষতি হবে রোগীরই। 

ইনসুলিন ইঞ্জেকশন এর ভীতি যেমন দেখা যায়, তেমনি যখন ইনসুলিন দিয়ে কারও ডায়াবেটিস দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, এবং ফলে রোগী সার্বিক ভাবে ভাল বোধ করতে শুরু করেন, তখন তাদের ভিতর উক্ত ভীতিটিও দুর হয়ে যায়। তারা তখন বুঝতে সক্ষম হন যে, ইনসুলিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য কতটা  কার্যকর।  


By: Dr. Kamal Pasha, Consultant, Interventional Cardiology